স্টাফ রিপোর্টার:
“স্বেচ্ছায় যারা রক্তদান করেন তারা রক্তদানের মাধ্যমে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ করতে পারেন। স্বেচ্ছা রক্তদাতারা আসলে মানবতার ফেরিওয়ালা”—এমন মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু হাসান ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলস্থ আইডিইবি মিলনায়তনে কোয়ান্টাম আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, স্বেচ্ছা রক্তদান মানবতার একটি মহৎ কাজ, যা সমাজে জীবন রক্ষার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে।
অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পর্যায়ের রক্তদাতাদের হাতে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও মেডেল তুলে দেন অতিথিরা। কমপক্ষে ৩ বার, ১০ বার, ২৫ বার এবং ৫০ বার রক্তদান করেছেন এমন তিন শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কোয়ান্টাম ল্যাব চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭ লক্ষাধিক মানুষকে রক্ত সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ লক্ষাধিক রক্তগ্রহীতা থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত, যাদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর জীবন রক্ষায় স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. আশিক মোসাদ্দিক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক এম রেজাউল হাসান। তিনি বলেন, স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞ রক্তদাতারা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। ৫০ বারের রক্তদাতা নুরুল মুক্তাদির বাপ্পী বলেন, রক্তদান তার জীবনের একটি মানবিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। ২৬ বার রক্তদানকারী ওয়াসিম মো. আদনানুল হক বলেন, নিয়মিত রক্তদান করে তিনি মানসিক শান্তি ও তৃপ্তি অনুভব করেন।
এছাড়াও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নিয়মিত রক্তগ্রহীতা সুমাইয়া আক্তার সিমি ও জুমান আল সাদ তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কারণেই তারা বেঁচে আছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন।
অনুষ্ঠানে কোয়ান্টাম ল্যাবের পক্ষ থেকে সকল স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি দেশে রক্তের চাহিদা পূরণে আরও তরুণদের স্বেচ্ছা রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, মানবতার এই সেবায় যত বেশি মানুষ অংশ নেবে, তত বেশি জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
আকাশজমিন / আরজে