রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনে কেনাকাটা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ কিংবা অবসর কাটাতে মার্কেট ও শপিংমলে যাতায়াত এখন নিত্যদিনের বিষয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকে, যা আগে থেকে জানা না থাকলে ভোগান্তির কারণ হতে পারে। তাই সময় ও শ্রম বাঁচাতে বাইরে বের হওয়ার আগে কোন কোন এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। এসব এলাকায় নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির অংশ হিসেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম বন্ধ রাখে। ফলে ক্রেতাদের জন্য বিকল্প পরিকল্পনা করা জরুরি হয়ে পড়ে।
আজ যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাবলিক ওয়ার্কস সেন্টার, ইউনিটি প্লাজা, যমুনা ফিউচার পার্ক, নুরুনবী সুপার মার্কেট, ইউনাইটেড প্লাজা, কুশল সেন্টার, এবি সুপার মার্কেট, আমির কমপ্লেক্স এবং উত্তরার মাসকট প্লাজা। এসব মার্কেট সাধারণত রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর মধ্যে অবস্থিত এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ক্রেতা এখানে আসেন। কিন্তু সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে আজ সেখানে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলবে না।
অন্যদিকে, শুধু শপিংমল নয়—রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় দোকানপাটও বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকা হলো বারিধারা, সাঁতারকুল, শাহাজাদপুর, নিকুঞ্জ-১ ও ২, কুড়িল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মধ্য ও উত্তর বাড্ডা, জগন্নাথপুর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান, জোয়ার সাহারা, আশকোনা এবং বিমানবন্দর সড়কসংলগ্ন এলাকা। এছাড়া উত্তরা থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাতেও দোকানপাট বন্ধ থাকবে।
এই এলাকাগুলোতে সাধারণত সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার প্রচলন রয়েছে, যা নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা বিশ্রামের সুযোগ পান, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবার ওপর চাপও কিছুটা কমে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর মতো বড় শহরে বাজার ও দোকানপাটের সাপ্তাহিক বন্ধের এই নিয়ম নাগরিক জীবনে একটি ছন্দ তৈরি করে। তবে অনেক সময় নতুন বা অনভিজ্ঞ ক্রেতারা বিষয়টি না জানার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে জরুরি কেনাকাটার প্রয়োজন হলে বন্ধ মার্কেট সামনে পেয়ে সময় নষ্ট হয় এবং বিকল্প খুঁজতে হয়।
তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে বের হওয়ার আগে নির্দিষ্ট এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট খোলা বা বন্ধ থাকার বিষয়টি জেনে নেওয়া উচিত। বর্তমানে অনেকেই অনলাইন মাধ্যমে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন, যা সময় ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, রাজধানীতে স্বাভাবিক কেনাকাটার পরিকল্পনা করতে হলে সাপ্তাহিক ছুটির এই তালিকা সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। এতে করে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হবে এবং সময়ও সাশ্রয় হবে।