মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের বলিয়ারপুর ল্যান্ডফিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিলতার কারণে এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদন সম্পন্ন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে ল্যান্ডফিল এলাকায় বিপুল পরিমাণ ময়লা জমে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে এই বর্জ্যের স্তূপের কারণে পরিবেশগত সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “ময়লার দুর্গন্ধ থেকে মানুষকে রক্ষা করা এবং পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখা এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এখানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, যা একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা করবে, অন্যদিকে জ্বালানি চাহিদা পূরণেও সহায়তা করবে।”
শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও জানান, ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কোথায় এবং কীভাবে বর্জ্য ফেলা হবে, তা নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এতে করে ভবিষ্যতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ময়লা ফেলার প্রবণতা কমবে এবং পরিবেশ আরও সুরক্ষিত থাকবে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য এই এলাকায় জমা হচ্ছে, যার ফলে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, বরং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি টেকসই সমাধান পাওয়া যাবে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে, দুর্গন্ধের সমস্যা হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে এটি একটি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
পরিদর্শনকালে পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রকল্পের সম্ভাবনা, প্রযুক্তিগত দিক এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং পরিবেশ রক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি সফলভাবে চালু করা সম্ভব হবে।
আকাশজমিন / আরআর