বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সারাদেশে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দেশে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে হাম সন্দেহে আরও ১৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৩।
এছাড়া একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৫৯ শিশু। অন্যদিকে, হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে আরও ২৮ হাজার ৩৩৩ শিশু। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টি এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এ রোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ফলে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ অবস্থায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া, জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।