বিগত ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছরে শিক্ষা খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে তদন্ত কার্যক্রমের ব্যাপ্তি অত্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় এখনো শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে শিক্ষা (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস তার প্রশ্নে জানতে চান, বিগত ‘ফ্যাসিবাদী সরকার’ কর্তৃক শিক্ষা খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশের কোনো পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না এবং থাকলে তা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮-০৯ অর্থবছর হতে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে শিক্ষা খাতে সংঘটিত সম্ভাব্য অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য তদন্ত কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে গুরুত্বারোপ করেছে।’ তিনি আরও জানান, এই দীর্ঘ সময়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, প্রকল্প ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখে একটি সমন্বিত চিত্র তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এসব নির্দেশনার আওতায় শিক্ষা খাতের বিভিন্ন স্তরে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করে যাচাই-বাছাই করার কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, এই তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু দুর্নীতির চিত্রই নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকেও চিহ্নিত করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রণয়ন করা হবে। এই শ্বেতপত্রে সংশ্লিষ্ট সময়কালে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতির ধরন, এর প্রভাব এবং প্রতিকারমূলক সুপারিশ তুলে ধরা হবে।
তবে শ্বেতপত্র প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কার্যক্রম অত্যন্ত বিস্তৃত ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।’ তিনি আশ্বস্ত করেন, তদন্ত ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পরপরই পর্যায়ক্রমে শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অতীতের অনিয়ম থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একটি জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই শ্বেতপত্র প্রকাশিত হলে শিক্ষা খাতের বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হবে এবং নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।