দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করতে আরও ১০০০ মাদ্রাসায় পর্যায়ক্রমে কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত মাদ্রাসা শিক্ষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, দেশে মাদ্রাসা শিক্ষায় ২ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে ৪০ লাখের বেশি প্রাথমিক স্তরে পড়াশোনা করছে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাদ্রাসা থেকে স্নাতক পাস করা শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্মবাজারমুখী করতে সরকারের কার্যকর পরিকল্পনা কী—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করার লক্ষ্যে কারিকুলামে পেশাভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গঠিত একটি কমিটি ইতোমধ্যে মাদ্রাসার কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা’ নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে প্রতিটি মাদ্রাসায় কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে দেশের ৫৪৮টি মাদ্রাসায় ভোকেশনাল কোর্স চালু রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সাধারণ ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে তারা ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারবে।
তিনি জানান, নতুন করে আরও ১০০০ মাদ্রাসায় কারিগরি ট্রেড কোর্স চালু করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। এতে করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, বরং শিল্প, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন পেশাভিত্তিক খাতেও নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবে।
সরকারের এই উদ্যোগকে শিক্ষাবিদরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও কর্মমুখী করে তুলতে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে এবং দেশের সব মাদ্রাসাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার আওতায় আনা হবে।