জাল ও ভুয়া সনদের অভিযোগে দেশের কলেজ পর্যায়ের ২০২ জন প্রভাষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের বিকেলে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত তদন্ত ও নিরীক্ষার মাধ্যমে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করেছে। এসব অনিয়মের মধ্যে জাল ও ভুয়া সনদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং আর্থিক দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানতে চান, এ বিষয়ে সরকার কী ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উদঘাটিত হয়েছে।
তিনি জানান, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিআইএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী চিহ্নিত অনিয়মের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে কলেজ পর্যায়ের ২০২ জন প্রভাষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রভাষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ প্রাপ্তির।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, এর মধ্যে এমপিওভুক্ত ৭৪ জন শিক্ষকের বেতন-ভাতা ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া এমপিওবিহীন বাকি ১২৮ জন প্রভাষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির মাধ্যমে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের জালিয়াতি, অনিয়ম বা ভুয়া সনদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং পরিদর্শন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত ও যোগ্যতাভিত্তিক করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি পাবে।