ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস এলাকার মানুষকে আগে সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকায় গ্যাস সরবরাহের আগে স্থানীয় জনগণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যেহেতু দেশের অন্যান্য এলাকায় যায়, সুতরাং আমার দাবি থাকবে—আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ গ্যাস পাবে, তারপর এটি অন্য এলাকায় যাবে।”
তিনি আরও জানান, তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের ৩১ নম্বর কূপ খনন করা হচ্ছে, যেখানে থেকে দৈনিক প্রায় ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নতুন কূপ থেকে উৎপাদিত গ্যাসও আগে স্থানীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের জন্য বরাদ্দ করা উচিত।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। এই মাটিতে জন্ম নিয়েছেন সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, শচীন দেব বর্মন, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এবং অলি আহাদের মতো ব্যক্তিত্বরা, যাদের অবদানে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে।”
গ্যাস সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের অন্তর্গত আশুগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী। এখানে সার কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, চালকল, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর রয়েছে। অথচ এখানকার গ্যাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হলেও স্থানীয় জনগণ পর্যাপ্ত গ্যাস সুবিধা পাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সাল থেকে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও অসাধু চক্রের সহযোগিতায় এখনো কিছু এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে, যা একটি বড় অনিয়ম।
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে স্থানীয় গ্যাস ব্যবহারের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।