জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) শিষ্টাচার ও সংসদীয় রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সংসদ কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় চেয়ারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করা, মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ বিভিন্ন আচরণগত শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একাধিক অনিয়ম লক্ষ্য করে স্পিকার এমপিদের উদ্দেশে বলেন, সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো আচরণ করা কারও পক্ষে অনুচিত।
তিনি বলেন, অনেক সদস্য সংসদে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন না। বিশ্বব্যাপী সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় মাথা নত করা, সালাম দেওয়া এবং বের হওয়ার সময় সম্মান প্রদর্শন করা একটি প্রচলিত নিয়ম। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেকেই এই শিষ্টাচার অনুসরণ করছেন না।
অধিবেশন চলাকালে যাতায়াতের শৃঙ্খলা ভঙ্গ নিয়েও স্পিকার কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অধিবেশনে একজন বক্তা কথা বলার সময় তার মধ্যবর্তী পথ দিয়ে চলাচল করা শিষ্টাচারবহির্ভূত। কিন্তু এটি হরহামেশা ঘটছে, যা সংসদের পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে স্পিকার বলেন, সংসদে মোবাইল ফোনে কথা বলা সম্পূর্ণ অনুচিত। সংসদ অধিবেশনের সময় ফোন মিউট করে রাখা উচিত। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়ে পূর্বে কোনো রেওয়াজ ছিল না, তাই এটি মেনে চলা সবার দায়িত্ব।
তিনি সংসদ কক্ষে খাবার গ্রহণের ঘটনাকেও অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেন। স্পিকার বলেন, সংসদে পানাহার করার কোনো বিধান নেই। ইতোমধ্যে এমন ঘটনা দেখা গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংসদের ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা সকল সদস্যের দায়িত্ব।
নতুন সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, যারা নতুনভাবে সংসদে এসেছেন, তাদের উচিত রুলস অব প্রসিডিউর ভালোভাবে অধ্যয়ন করা। এতে সংসদীয় কার্যক্রম বুঝতে সহজ হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ভুল এড়ানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদে অনেক সময় এমন আচরণ দেখা যায় যা অনভিপ্রেত। সম্প্রতি দর্শক গ্যালারিতে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কিছু সদস্যের হ্যান্ডশেক করার ঘটনাকেও তিনি শিষ্টাচারবিরোধী বলে উল্লেখ করেন।
স্পিকার সতর্ক করে বলেন, সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা, এর মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব। শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার বজায় না থাকলে সংসদীয় কার্যক্রমের গাম্ভীর্য ক্ষুণ্ন হয়।