ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বাসভাড়া বাড়লেও নগরে দ্বিগুণ আদায়ের অভিযোগ


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১২:৪৮ পিএম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের পর দূরপাল্লার পরিবহনে ভাড়া বাড়লেও নগর পরিবহনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন মহানগরীতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার ঘটনায় সাধারণ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন হার কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া কিছুটা বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধি তুলনামূলক সীমিত হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

নতুন ভাড়া কাঠামো অনুযায়ী রাজধানী থেকে টেকনাফ রুটে নন-এসি বাসভাড়া বেড়েছে ৬৫ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ২৭০ টাকা, এখন হয়েছে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা। একইভাবে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় রুটে ভাড়া বেড়েছে ৬০ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ১৮০ টাকা, এখন হয়েছে ১ হাজার ২৪০ টাকা।

ঢাকা থেকে বিভাগীয় শহরগুলোর ভাড়াও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৭০৪ টাকা, রাজশাহীতে ৭৩৮ টাকা, খুলনায় ৬৮০ টাকা, বরিশালে ৫৯১ টাকা এবং সিলেটে ৭৪০ টাকা। এছাড়া রংপুরে যেতে এখন ৯১১ টাকা, ময়মনসিংহে ৩৩০ টাকা, কক্সবাজারে ১ হাজার ১৪৭ টাকা, কুমিল্লায় ৩০৬ টাকা এবং বগুড়ায় ৫৭৮ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীর্ঘতম রুট দিনাজপুর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৪৫৭ টাকা, যা আগে ছিল ২ হাজার ৩৪০ টাকা। এসব ভাড়া নির্ধারণে দূরত্ব, টোল, সেতু ও ফেরি খরচ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) হিসাব করে থাকে।

তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে নগর পরিবহনে। নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক বাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। যেখানে ভাড়া বাড়ার কথা ছিল সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ টাকা, সেখানে অতিরিক্ত আদায় নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।

গাবতলী থেকে সদরঘাটগামী যাত্রী মনোয়ার হোসেন বলেন, আগে যেখানে ৪০ টাকা ভাড়া দিতেন, এখন সেখানে ৬০ টাকা দাবি করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দর কষাকষি করে ৫০ টাকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন সদরঘাট থেকে বিমানবন্দরগামী যাত্রী সানজু ইসলাম। তিনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার কোনো তালিকা বা নির্দেশনা বাসে প্রদর্শন করা হচ্ছে না, ফলে যার যা ইচ্ছা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী আরেক যাত্রী জানান, হঠাৎ করেই ২০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা সরকারি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যাত্রীরা বলছেন, প্রতিবাদ করলে অনেক সময় বাসের স্টাফদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়তে হয়।

এদিকে বাসচালক ও সুপারভাইজারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, নতুন ভাড়ার তালিকা এখনো স্পষ্টভাবে হাতে পৌঁছায়নি। ফলে তারা আগের ভাড়া অনুযায়ীই আদায় করছেন। তবে কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে কিনা, তা তারা নিশ্চিত করতে পারেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস হেলপার জানান, মালিক পক্ষ থেকে এখনো নতুন ভাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে তারা পূর্বের ভাড়াই আদায় করছেন। তবে যাত্রীদের অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির পর কার্যকর মনিটরিং না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তিনি বলেন, বাসে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমানভাবে টানানো এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন খাতে পড়বে—এটি স্বাভাবিক। তবে সেই প্রভাব যেন নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ থাকে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় সাধারণ যাত্রীরা অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়বেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত যাত্রীরা। প্রতিদিনের যাতায়াতে বাড়তি ভাড়া তাদের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। অনেকেই বলছেন, নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে এই অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ভাড়া বৃদ্ধি আংশিক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অসংগতি এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে নগর পরিবহনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর