প্রতিদিন রাজধানীতে কাজের প্রয়োজনে কিংবা কেনাকাটার জন্য বিভিন্ন মার্কেট ও এলাকায় মানুষের যাতায়াত থাকে। কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু দিন ও নিয়ম অনুযায়ী ঢাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট, দোকানপাট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকে। ফলে অনেক সময় প্রস্তুতি ছাড়া বের হলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে শনিবারের মতো সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর বড় একটি অংশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত থাকে, যা সম্পর্কে আগে থেকে জানা না থাকলে সময় ও অর্থ—দুটিই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মার্কেট, দোকানপাট ও কিছু দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে। নগরবাসীর সুবিধার্থে কোন কোন এলাকা ও মার্কেট বন্ধ থাকবে তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে মানুষ আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে পারে।
রাজধানীর যেসব এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকবে তার মধ্যে রয়েছে শ্যামবাজার, বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারি বাজার ও চানখাঁরপুল।
এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু বড় ও মাঝারি আকারের মার্কেটও বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট ও শরিফ ম্যানশন।
এই তালিকা অনুযায়ী দেখা যায়, রাজধানীর পুরান ঢাকা ও আশপাশের বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলোর বড় অংশই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বন্ধ থাকে। বিশেষ করে কাপড়, পাইকারি পণ্য, কাঠ, ইলেকট্রনিকস ও দৈনন্দিন পণ্যের বড় হোলসেল বাজারগুলো একদিনের জন্য কার্যত স্থবির হয়ে যায়। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের সাপ্তাহিক বিশ্রামের সুযোগ তৈরি হয়, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করার প্রয়োজনীয়তাও বেড়ে যায়।
দর্শনীয় স্থানের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। রাজধানীর শিশু একাডেমি জাদুঘর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকে। তবে রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। ফলে যারা পরিবার নিয়ে ঘুরতে বা শিশুদের নিয়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণে যেতে চান, তাদের আগে থেকেই সময়সূচি জেনে যাওয়া প্রয়োজন।
রাজধানীতে এ ধরনের সাপ্তাহিক বন্ধের নিয়ম মূলত দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ব্যবসায়িক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনগুলোতে হোলসেল ও খুচরা বাজার বন্ধ রাখা হয়, যাতে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিশ্রামের সুযোগ পান এবং সাপ্তাহিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়। তবে নগরজীবনের ব্যস্ততার কারণে অনেকেই এই নিয়ম সম্পর্কে অবগত না থাকায় প্রায়ই সমস্যায় পড়েন।
বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা আগে থেকে তথ্য না জানলে বন্ধ মার্কেটের সামনে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এতে সময়, পরিবহন খরচ এবং শ্রম—সবকিছুই অপচয় হয়। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার তালিকা ও সময়সূচি জেনে বাইরে বের হওয়া এখন অনেকটাই জরুরি হয়ে উঠেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও মনে করেন, এই ধরনের তথ্য নিয়মিতভাবে প্রচার করা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আগাম ঘোষণা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া গেলে মানুষ উপকৃত হবে।
সব মিলিয়ে শনিবারের এই তালিকা রাজধানীবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেনাকাটা বা ঘুরতে যাওয়ার আগে পরিকল্পনা করে বের হলে সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।