বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিমান) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাংক এশিয়ার বোর্ড নির্বাহী কমিটির স্পন্সর ডিরেক্টর ও চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিমান-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পাশাপাশি বিমানের পরিচালনা পর্ষদে বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে আর্থিক খাত থেকে চারজনকে পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন পর্ষদে পরিচালক হিসেবে রয়েছেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল জাভেদ তানভীর খান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনির ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল মো. হাসান উজ জামান, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও এম মাশরুর রিয়াজ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির, ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রহিম, আইসিএমএবি’র অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ, চৌধুরী অ্যান্ড ল ফার্ম হেড অব চেম্বারস ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক আবু নাসের আহমেদ ইশতিয়াক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ (পদাধিকারবলে)।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিভিন্ন খাতের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই নতুন পর্ষদ বিমানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গতি আনবে। বিশেষ করে আর্থিক খাতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি প্রতিষ্ঠানটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিমানের চেয়ারম্যান পদ থেকে শেখ বশিরউদ্দিন পদত্যাগ করার পর দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য ছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছিল। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ হলো।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবা প্রদান করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মানোন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান ও পর্ষদের নেতৃত্বে এসব উদ্যোগ আরও বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিমানের পরিচালন কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের। যাত্রীসেবা উন্নয়ন, সময়নিষ্ঠতা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।