প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা ও অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক চুক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের আস্থা প্রকাশ করেছে এবং সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তাই নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হবে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বিয়াম ফাউন্ডেশনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একটি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত প্রশাসন গড়ে তুলতে বিএনপি সরকার সবসময় গুরুত্ব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, আজ যে ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে, তা কেবল একটি অবকাঠামো নির্মাণ নয়; এটি প্রশাসনিক সক্ষমতা উন্নয়ন, নেতৃত্ব গঠন এবং মানবসম্পদ বিকাশের একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের প্রশাসনিক নেতৃত্ব তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই ভবনটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি জ্ঞানচর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।” তিনি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ জনবল অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হলে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সরকারের এই উদ্যোগকে প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত প্রশাসন গড়ে তোলা গেলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।