অনলাইন রিপোর্টার
শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা হ্রাস পাচ্ছে এবং অনেকে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতায় বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ, এমনকি ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক কিংবা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং উদ্ভাবকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে এমন মন্তব্য করেন, যা বাস্তবতা বিবর্জিত এবং অনেক ক্ষেত্রে অযাচিত ও অসংলগ্ন। কেউ কেউ “হাই”, “গো অ্যাহেড”, “ডু আ রিসার্চ” ধরনের মন্তব্য করলেও তা অনেক সময় উদ্দেশ্যহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার একটি অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্ম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা, এমনকি ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীরাও অনেক সময় শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করছে না। প্রশ্ন উঠছে, আমরা আমাদের তরুণদের কোন পথে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা কি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছি? দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে পরিচিত ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে আমরা কতটা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি, তা নিয়েও ভাবার সময় এসেছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দিতে হবে। শুধু ডিজিটাল দক্ষতা নয়, মূল্যবোধও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। না হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপব্যবহার ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বাড়বে, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই কর্মশালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব বা বৌদ্ধিক সম্পত্তি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। দেশের উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব অনেক সময় বিদেশে গিয়ে নিবন্ধিত হচ্ছে, অথচ নিজ দেশে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রধান কারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতা।
মন্ত্রী বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে হলে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে হবে।