ভারতের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত দুই বছর ধরে তিনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর ছেলে, আলোকচিত্রী নীতিন রাই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রঘু রাই ছিলেন ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী আলোকচিত্রীদের একজন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণে তাঁর অবদান ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিদেশি আলোকচিত্রীদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম সারির একজন, যিনি মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন।
তিনি তৎকালীন ভারতের দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় তিনি ভারতের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করে বাংলাদেশি শরণার্থীদের দুর্দশা, কষ্ট ও মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র ক্যামেরাবন্দি করেন।
পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাংলাদেশেও প্রবেশ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্য ধারণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ, বিজয়ের পর আনন্দঘন মুহূর্ত, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দেশে ফেরার দৃশ্য তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
তাঁর তোলা এসব ছবি শুধু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবেই বিবেচিত হয়নি, বরং তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতিমান আলোকচিত্রী হিসেবেও পরিচিত করে তোলে।
২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশে এসে ছায়ানট ভবনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তাঁর উপস্থিতি আলোকচিত্রী মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দেয়।
রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস ও মানবতার এক অমূল্য দলিল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।