দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, আর এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর বাকি ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে একদিনেই ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ৪২১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৫ শিশুর মৃত্যু ছাড়াও সিলেট বিভাগে ১ শিশু এবং রাজশাহী বিভাগে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে যে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে মোট ৩২ হাজার ০২৮ শিশুর শরীরে। এই সময়ের মধ্যে গুরুতর অবস্থার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ২১ হাজার ৪৩৪ শিশুকে। তবে এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭ হাজার ৯৫৫ শিশু, যা কিছুটা স্বস্তির খবর দিলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ।
একই সময়ের মধ্যে দেশে মোট ৪ হাজার ৬০৩ শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৪৩ শিশু। অন্যদিকে, একই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৬-তে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত চিকিৎসা না নেওয়ার প্রবণতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জটিলতা তৈরি করতে পারে, তাই দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের প্রতি বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া বা কাশি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, হামের এই বাড়তে থাকা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।