ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেবে রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১২:২০ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের বিদ্যুৎ খাতে এটি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রটি চালু হলে এর স্বাভাবিক কার্যকাল হবে ৬০ বছর, যার পুরো সময়জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়ন করা গেলে এর আয়ু আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি লোডিংয়ের পরপরই কেন্দ্রটি সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে না। আরও শতাধিক ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

প্রাথমিকভাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৬ টাকা ধরা হয়েছিল। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবে এই ব্যয় প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবুও এটিকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ইউনিটে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি বান্ডেলে ১৫টি ইউরেনিয়াম রড সংযুক্ত থাকে। বাংলাদেশ এর আগে ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করেছিল, যার মধ্যে ৫টি সংরক্ষণে রাখা হয়েছে।

জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ায় ইউরেনিয়াম বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হবে, যা পানি বাষ্পে রূপান্তর করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

একবার জ্বালানি লোড করার পর এটি প্রায় দেড় বছর পর্যন্ত অবিরাম বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে। ফলে প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো ঘন ঘন জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজন হবে না। দেড় বছর পর একটি নির্দিষ্ট অংশে পুনরায় জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর