অনলাইন রিপোর্টার
ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার ঢাকা শহরের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গভীর নলকূপের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ভবিষ্যতে রাজধানীর পানি নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই এখনই বিকল্প উৎস থেকে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পানি ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ পানির সংকট এবং নগরীর ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো নিরাপদ পানির অভাব। বিশেষ করে ঢাকা শহরে এই সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাই গভীর নলকূপের পানির ওপর নির্ভরশীল, যা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে, ফলে ভবিষ্যতে পানির সংকট আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তিনি বলেন, পুরোনো চিন্তা-ভাবনা থেকে বের হয়ে এসে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে পরিকল্পনা করার। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভূ-পৃষ্ঠের পানি বা সারফেস ওয়াটার ব্যবহারের দিকে অগ্রসর হতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নদীর পানি পরিশোধন করে ব্যবহার এবং বিকল্প উৎস তৈরি করার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, হাতিরঝিলের পানি পরিশোধন করে ব্যবহারযোগ্য করা যেতে পারে। পাশাপাশি আশুলিয়ার পানি সংরক্ষণ এবং ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানি ব্যবহারের বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর পানির সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে ঢাকার মাটির নিচের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এটি শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই এখনই পরিকল্পিতভাবে পানি ব্যবস্থাপনার দিকে এগোতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে। সঠিক পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততা থাকলে পানি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নয়, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও টেকসই হবে।
তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, পানি ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বাড়াতে এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে।