ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বজ্রপাতে নিরাপদ থাকার জরুরি নির্দেশনা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৩৯ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বর্ষা মৌসুম মানেই প্রকৃতিতে সজীবতা, নতুন প্রাণের সঞ্চার এবং সবুজের সমারোহ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বর্ষা ও প্রাক-বর্ষা মৌসুম অনেকের জন্যই যেন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আকাশ কালো করে আসা মেঘ, ঝোড়ো হাওয়া এবং মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হওয়া বিদ্যুতের ঝলকানি এখন অনেক সময় প্রাণঘাতী বজ্রপাতের রূপ নিচ্ছে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বজ্রপাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি এখন বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে গ্রীষ্মের শুরু থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি জনমনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বজ্রপাতের হার ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বজ্রপাত একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি সরাসরি প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের শরীরেও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে। বজ্রাঘাতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে তীব্র পেশিব্যথা, হাড় ভাঙা, স্নায়ুজনিত সমস্যা, কানে কম শোনা, খিঁচুনি, দেহ পুড়ে যাওয়া এবং চোখে ছানি পড়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বজ্রপাতের তীব্র আঘাতে হৃদযন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিস্থিতিও তৈরি হয়, যা জীবননাশের কারণ হতে পারে।

এ কারণে বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ ও শক্তিশালী ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত থেকে বাঁচতে সচেতনতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাড়ির ভেতরে থাকলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলা উচিত। বজ্রঝড় চলাকালে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখা প্রয়োজন। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যেমন টেলিভিশন, ফ্রিজ, কম্পিউটার এবং ল্যান্ডফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। বজ্রপাত সরাসরি ভবনে না পড়লেও বিদ্যুতের প্রবাহ বৈদ্যুতিক সংযোগের মাধ্যমে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বিপজ্জনক হতে পারে। এছাড়া পানির কল, শাওয়ার বা কোনো ধরনের জলাধারের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা জরুরি, কারণ পানি বিদ্যুতের খুব ভালো পরিবাহী।

বাইরে থাকলে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। বজ্রপাতের সময় কখনোই গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। এটি অনেকের একটি সাধারণ ভুল, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। উঁচু গাছ বজ্রপাত আকর্ষণ করে এবং সেই বিদ্যুৎ মাটিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ফলে আশপাশের মানুষও ঝুঁকিতে পড়ে। একইভাবে বিদ্যুতের খুঁটি, ধাতব বস্তু বা উঁচু স্থানের কাছাকাছি থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে।

যদি কেউ যানবাহনের ভেতরে থাকেন, তবে জানালা বন্ধ রেখে গাড়ির ভেতরে অবস্থান করাই সবচেয়ে নিরাপদ। বজ্রপাতের সময় রাবারের সোলযুক্ত জুতা ব্যবহার কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে, কারণ রাবার বিদ্যুতের অপরিবাহী।

বজ্রঝড় চলাকালে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ব্যবহার না করাই উত্তম। ঝড় থেমে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অন্তত ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত, কারণ বজ্রপাতের ঝুঁকি পুরোপুরি তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয় না।

শিশুদের বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বজ্রধ্বনি ও ঝলকানিতে শিশুরা অনেক সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাদের আগে থেকেই সহজভাবে শেখানো উচিত, কীভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করা জরুরি। ঝড়প্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের আগে থেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের পরিকল্পনা করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা, সতর্কতা এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া।

প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য। সামান্য অবহেলা বা অজ্ঞানতার কারণে যেন কোনো প্রাণ না ঝরে যায়, সে বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর