ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে, যেখানে অর্থের অভাবে কেউ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে না।
মঙ্গলবার রাজধানীতে আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। বিশেষ করে যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তাদের জন্য আইনি সহায়তা সহজলভ্য করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার শুধু আইনের বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং তা মানুষের বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত জরুরি। কেবল যান্ত্রিকভাবে আইন প্রয়োগ করলে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বরং প্রতিটি সিদ্ধান্তে মানবিকতা ও নৈতিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়পরায়ণতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে।
তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এই অধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা। সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা একটি বড় সমস্যা। ‘বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার’—এই বাস্তবতা সামনে রেখে সরকার মামলার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে বিচারব্যবস্থার সংস্কার অত্যন্ত প্রয়োজন। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য বিচারব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর করে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশেষ করে আইনি সহায়তা ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সরকারের অবস্থান ভবিষ্যতে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা গেলে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের ন্যায়বিচারের আওতায় আনা সহজ হবে। এতে করে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।