ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খোঁজ পেলেই ৭ দণ্ডপ্রাপ্তকে গ্রেপ্তার করে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর সরকারি অফিসে ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক করা খুবই খারাপ: তথ্য উপদেষ্টা জুলাই গণহত্যায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ

ওপেক ছাড়ার ঘোষণা সংযুক্ত আরব আমিরাতের


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৯:০৮ পিএম

তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রায় ৬০ বছর ধরে এই জোটের সদস্য থাকার পর দেশটি এমন সিদ্ধান্ত নিল। আগামী ১ মে থেকে এই পদত্যাগ কার্যকর হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে দ্রুত পরিবর্তন এবং বিকল্প শক্তির উৎসের প্রসারের প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে নির্ধারণের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর এই শক্তিশালী জোটের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে ওপেকের প্রভাবশালী সদস্য ও কার্যত নেতৃত্বদানকারী দেশ সৌদি আরবের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ওপেকের নীতিনির্ধারণে ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক সময়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেওয়ায় ওপেকভুক্ত উপসাগরীয় দেশগুলো তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়ে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ প্রণালিটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।

এ অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, আঞ্চলিক সংঘাতের সময় ইরানের হামলা থেকে তাদের রক্ষা করতে অন্যান্য আরব দেশগুলো পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখছে না। ফলে নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে দেশটি।

বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ওপেক ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংস্থাটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি উৎপাদন করে, ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। ওপেকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ওঠানামা করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রস্থান ঘোষণার পর ওপেকের বর্তমান সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১১-এ। সদস্য দেশগুলো হলো সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ভেনেজুয়েলা, আলজেরিয়া, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, গ্যাবন, ইকুইটোরিয়াল গিনি এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমিরাতের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ওপেকের ঐক্য ও কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর