বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নিজেদের ‘মুক্তিযুদ্ধের দল’ হিসেবে দাবি করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এবং রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবে দাবি করে। অথচ দলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাত বছর পর। এই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে মুক্তিযুদ্ধের দল কীভাবে বিএনপি হতে পারে?”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দলটির নারী নেত্রীরাও রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানা মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? এটি কি রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে, নাকি উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়ার ফল?” তিনি আরও বলেন, “আপনারা কি কোনো বিশেষ শক্তিকে খুশি করতে চান, নাকি তাদের সহযোগিতায় ক্ষমতায় থাকতে আগ্রহী? এর জবাব সংশ্লিষ্টদেরই দিতে হবে।”
এ সময় তিনি রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বিতর্কিত একটি প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ‘জান্নাতের টিকিট বিক্রি’ নিয়ে প্রচলিত সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “আমরা নাকি জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি—এমন কথা বলা হয়। অবশ্যই আমরা জান্নাতে যেতে চাই। আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য জান্নাত। আপনারা কি জান্নাতে যেতে চান না?”
তার এই বক্তব্য সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদে এ ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস, আদর্শ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক হলেও সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে এসব আলোচনা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং এ বক্তব্যের প্রভাব ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।