রাজধানীর প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি একসময় আধুনিক সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়েছিল। বিদেশি পর্যটক ও রাষ্ট্রীয় অতিথিদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে আধুনিক যাত্রীছাউনি, ডিজিটাল এলইডি বিলবোর্ড, বর্জ্য বিন এবং সবুজায়ন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত তদারকির অভাবে পুরো প্রকল্পটি এখন কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে স্থাপিত বড় আকারের ডিজিটাল এলইডি বিলবোর্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এসব স্ক্রিনে ধুলোর আস্তরণ জমে কালো হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সেগুলো কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কোটি টাকার এসব প্রযুক্তি এখন কার্যত অচল হয়ে পড়ে থাকলেও এগুলো সচল করার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
এ রুটে যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে নির্মিত আধুনিক যাত্রীছাউনিগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অধিকাংশ ছাউনির কাচ ভেঙে গেছে, বসার জায়গা নষ্ট হয়ে গেছে এবং তথ্য প্রদর্শনের ডিজিটাল বোর্ডগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব যাত্রীছাউনি এখন পথচারীদের জন্য কোনো উপকারে আসছে না। বরং কিছু কিছু ছাউনি ভবঘুরে ও অস্থায়ী দখলদারদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে স্থাপন করা আধুনিক বর্জ্য বিনগুলোরও একই অবস্থা। অধিকাংশ বিন চুরি হয়ে গেছে, কিছু ভেঙে পড়ে আছে এবং কিছু ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, যা পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট করছে।
প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কুড়িল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিশাল আকারের ডিজিটাল স্ক্রিন, যা প্রায় ছয় কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল। উদ্বোধনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বিকল হয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি ধুলাবালিতে ঢাকা অবস্থায় পড়ে আছে।
এছাড়া সড়কের বিভাজক ও দুই পাশে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির গাছও এখন অবহেলার শিকার। নিয়মিত পানি দেওয়া ও পরিচর্যার অভাবে অনেক গাছ শুকিয়ে মারা গেছে। সবুজায়নের যে উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলছেন, এত বড় বাজেটের প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত দেখভাল ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা না থাকলে এমন প্রকল্প ভবিষ্যতেও টেকসই হবে না বলে তারা মনে করেন।
বর্তমানে বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত সড়কটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হলেও সৌন্দর্যবর্ধনের এসব উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা অনেকটা অবহেলিত চিত্র ধারণ করেছে। দ্রুত সংস্কার ও পুনরায় সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।