সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এর সঙ্গে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী ওয়ালিদ আবদুল করিম আল খুরেইজি এর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংহতির বার্তা হস্তান্তর করেন। তিনি জানান, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ সৌদি আরবের পাশে রয়েছে এবং সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।
আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়। হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বহুমুখী করতে চায় এবং নতুন নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বাদশাহ এবং ক্রাউন প্রিন্সকে তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সফর হলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সৌদি আরবের উপমন্ত্রী ওয়ালিদ আবদুল করিম আল খুরেইজি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংবেদনশীল সময়ে বাংলাদেশের অবস্থান সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সৌদি আরব বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সম্মতি প্রকাশ করা হয়।
এই বৈঠককে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা আরও বাড়াবে।