ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সেরা ফুটবলার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন, হত্যা করলো কারা?


  • আপলোড সময় : শনিবার ০২ মে, ২০২৬ সময় : ৮:৫৬ এএম

একসময় যশোরে ফুটবলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ে হয়ে ওঠেন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং অপরাধী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে আলোচিত খন্দকার নাইম আহমেদ টিটনের জীবন অবশেষে শেষ হয়েছে গুলিতে। রাজধানী ঢাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন টিটন। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে তাকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে ৫-৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত টিটনের পৈতৃক বাড়ি যশোর শহরের খড়কী ‘আপনের মোড়’ এলাকায়। তিনি সাবেক জুটমিল কর্মকর্তা খন্দকার ফখরুদ্দিনের ছেলে। একই সঙ্গে ২০০০ সালে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত আলোচিত সন্ত্রাসী টুটুলের ছোট ভাই হিসেবে তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাদ এশা যশোর শহরের কারবালা জামে মসজিদে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয়রা, স্বজন ও পরিচিতরা অংশ নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাত ভাই ও পাঁচ বোনের পরিবারে বড় হওয়া টিটন তরুণ বয়সেই ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পান। ৯০-এর দশকে যশোর অঞ্চলের ফুটবল অঙ্গনে তার নাম ছিল পরিচিত। তবে পরবর্তীতে পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব তাকে অপরাধ জগতে ঠেলে দেয় বলে স্থানীয়দের দাবি।

সূত্র বলছে, তার বড় ভাই টুটুল এবং ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজেদুল ইসলাম ইমনের মাধ্যমে অপরাধ জগতের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা বাড়ে। এরপর ধীরে ধীরে অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

১৯৯৬ সালের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তারা ঢাকায় চলে যান এবং মোহাম্মদপুরকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অপরাধ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। যশোর ও ঢাকায় সমানভাবে তাদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যমতে, টিটনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসসহ একাধিক মামলা ছিল। ২০২১ সালে প্রকাশিত দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় তার নাম দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বলে জানা যায়।

অতীতের একাধিক ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে। স্থানীয় বিরোধের জেরে ১৯৯৯ সালে যশোরের কারবালা এলাকায় মাত্র দশ মিনিটের ব্যবধানে দুই বিএনপি কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

২০০০ সালে তার ভাই টুটুল র‌্যাবের কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর টিটন ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় ঢাকায় থেকে অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

যশোরের সাবেক খেলোয়াড় ও রেফারি লাবু জোয়ার্দার বলেন, টিটন একসময় ভালো ফুটবল খেলতেন এবং স্থানীয় খেলাধুলায় পরিচিত ছিলেন। পরে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন বলে তার ধারণা।

বহুবার গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন টিটন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান বলে জানা যায়। এরপর আবারও অপরাধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, নিহত টিটন যশোরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে যশোরে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর