মে মাসের জন্য দেশের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ১৮ এপ্রিল দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তবে নতুন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মে মাসে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এপ্রিল মাসে নির্ধারিত যে দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে, সেই একই দামই মে মাসেও বহাল থাকবে। ফলে সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দামে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, মে মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারিত থাকবে। এই দাম এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া হালনাগাদ মূল্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার ভিত্তিতে প্রতি মাসেই দেশে মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সেই নীতিমালার আলোকে নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করা হলেও মে মাসে স্থিতিশীলতা বিবেচনায় রেখে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকার খবরে পরিবহন খাত ও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয়ের ওপর জ্বালানি তেলের সরাসরি প্রভাব থাকায় এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। সে কারণে জ্বালানি খাতে মূল্য স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরকারের ধারাবাহিক নজরদারি ও কার্যকর নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের নিয়মিত মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম, ডলারের বিনিময় হার এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচক বিবেচনা করা হয়। সেই অনুযায়ী দাম বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে আপাতত কোনো নতুন চাপ তৈরি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবহন ব্যয় স্থিতিশীল থাকায় পণ্যদরেও বড় ধরনের ওঠানামা হওয়ার আশঙ্কা কমবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।