ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

চলে গেছে রাফিদ, রয়ে গেছে তার আলো ধরা দিনগুলো


  • আপলোড সময় : শনিবার ০২ মে, ২০২৬ সময় : ৫:১৯ পিএম

ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোডের রেললাইন ঘেঁষা সেই বিকেলের দৃশ্য আজও স্পষ্ট হয়ে ভাসে স্বজন ও সহপাঠীদের স্মৃতিতে। ২০২৫ সালের ২ মে, শুক্রবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় থেমে যায় এক তরুণের স্বপ্নময় জীবন।

নিহত ইসতিয়াক আহমেদ রাফিদ ছিলেন রাজশাহী কলেজ-এর বাংলা বিভাগের স্নাতক শিক্ষার্থী এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ আলোকচিত্রী। ফটোগ্রাফির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই সেদিন তিনি ব্যস্ত ছিলেন ট্রেনের ভিডিও ধারণে, যা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চাকরির পরীক্ষা দিতে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে তিনি তার খালার বাসায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে খালাতো ভাই মুস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে বের হন তিনি।

মুস্তাফিজুর রহমান জানান, টঙ্গী থেকে কমলাপুরগামী একটি ট্রেনের ভিডিও ধারণ করছিলেন রাফিদ। ঠিক সেই সময় বিপরীত লাইনে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা আরেকটি ট্রেন তাকে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া তৈরি করে।

পরদিন ৩ মে সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের সদাশিবপুর-হাজিপাড়া গ্রামে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে বাবা রেজাউল করিমসহ পুরো পরিবারে নেমে আসে গভীর শোক।

স্বজনদের ভাষ্য, রাফিদ ছিলেন শান্ত, ভদ্র ও স্বপ্নবাজ এক তরুণ। ফটোগ্রাফিই ছিল তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। গ্রামের বাড়িতে এখনও সেই শোক কাটেনি। প্রতিটি কোণে রয়ে গেছে তার স্মৃতি।

সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছেও তিনি ছিলেন এক ভিন্নমাত্রার মানুষ। তার ক্যাম্পাসের এক জুনিয়র অর্নব বলেন, “রাফিদ ভাইয়া ছবির ভেতরে গল্প খুঁজে বের করতেন। সাধারণ দৃশ্যও তার চোখে অসাধারণ হয়ে উঠত। তার তোলা ছবিগুলো এখন আমাদের কাছে অমূল্য স্মৃতি।”


আজ ২ মে ২০২৬, রাফিদের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো। বসন্ত শেষ হয়ে আবারও বসন্ত এসেছে, কৃষ্ণচূড়া আবারও রাঙিয়েছে ক্যাম্পাস। কিন্তু সেই রঙ আর ধরা পড়ে না রাফিদের ক্যামেরায়। কৃষ্ণচূড়া ফুল-এর লাল রঙ যেন আরও গভীর করে দেয় তার অনুপস্থিতির শূন্যতা।

তবু তার অনুপস্থিতি নিঃশব্দে টের পাওয়া যায়। কোনো বিকেলে আলো-ছায়ার ফাঁকে, কিংবা হঠাৎ কোনো ফ্রেমে চোখ আটকে গেলে মনে পড়ে—এই দৃশ্যটাও হয়তো একদিন তার ক্যামেরায় ধরা পড়তে পারত।

বন্ধুমহল, সহপাঠী ও জুনিয়রদের কাছে তিনি আজও এক প্রাণবন্ত গল্পকার, যিনি ছবি দিয়ে গল্প বলতে জানতেন। তার অনুপস্থিতি যেন এক নীরব শূন্যতা হয়ে রয়ে গেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ রাফিদ নেই। কিন্তু তার দেখার চোখ, তার ফ্রেমবন্দি সময়—সেগুলো রয়ে গেছে। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন পরিবার, বন্ধু ও সহপাঠীরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর