অনলাইন রিপোর্টার
ঢাকায় অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং দেশের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
রবিবার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ মাঠ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সারাদেশ থেকে আগত জেলা প্রশাসকরাও সম্মেলনে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার জনগণের দুর্ভোগ বৃদ্ধি না করে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের কল্যাণে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের উদ্দেশে বলেন, দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর বিশেষ করে রাত ৭টার পর মার্কেট ও শপিংমলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়েও ডিসিদের নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলন আগামী ৬ মে পর্যন্ত চলবে। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৩০টি কার্য অধিবেশন রয়েছে। সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন এবং মাঠ প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলন আগের তুলনায় এক দিন বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যাতে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব বিস্তারিতভাবে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। সরকার আশা করছে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্র ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে এবং জনসেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।