অনলাইন রিপোর্টার
বাংলাদেশে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রশাসনের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা যেন রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত পক্ষপাত থেকে দূরে থেকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকেন।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং দেশের সব জেলার প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মাঠ প্রশাসনের মূল শক্তি হলো নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এবং কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। এজন্য প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্তে দ্রুত ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মাঠ পর্যায়ে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় তিনি বিশেষভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর বাজার ও শপিংমলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং এ বিষয়ে ডিসিদের নজরদারি বাড়াতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান। পথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।
চার দিনব্যাপী এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন আগামী ৬ মে শেষ হবে। এবারের সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৩০টি কার্য অধিবেশন রয়েছে। সরকারের ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
মাঠ প্রশাসন থেকে এবার মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৪৯৮টি কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে।
সরকার মনে করছে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্র ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে এবং সরকারি সেবা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাবে।