দেশে হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গে। চলতি রোগবিস্তার পরিস্থিতিতে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৬৬ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মৃত ১০ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গে বরিশালে ২ জন, চট্টগ্রামে ১ জন, ঢাকায় ৪ জন, খুলনায় ১ জন এবং সিলেটে ১ জন শিশু মারা গেছে। এছাড়া হাম শনাক্ত হওয়া এক শিশুর মৃত্যু ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে বর্তমানে অনেক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে মোট ২৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে আরও ৫০ শিশুর।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৫ মার্চ থেকে দেশে মোট ৪০ হাজার ৪৯১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৮১৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে ২৪ হাজার ৯০ শিশু। এছাড়া এ সময়ে মোট ৫ হাজার ৩১৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে। তাই সময়মতো টিকা প্রদান এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশজুড়ে শিশু মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।