আইন ভাঙলে অটো নোটিশ, হাজিরা না দিলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করবে ডিএমপি
ঢাকা মহানগরের সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় এখন থেকে সিসি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো জেনারেটেড) নোটিশ পাঠাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধে হাজির না হলে পরবর্তী ধাপে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রমও গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (৩ মে ২০২৬) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সেবা উন্নত করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সিসি ক্যামেরা ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করছে। এসব ফুটেজ ব্যবহার করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক ও চালকের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে।
নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালককে ডিএমপি সদর দপ্তর বা নির্ধারিত ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে। জরিমানা পরিশোধ করা হচ্ছে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।
ডিএমপি জানায়, নোটিশ পাওয়ার পরও কেউ হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে সমন জারি বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, যা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংয়ে উন্নত সিসি ক্যামেরা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে লাল বাতি অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে চলাচল, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং লেন ব্লক করার মতো অপরাধ শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা ও জরিমানা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়।
ডিএমপি সতর্ক করে বলেছে, সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের নামে কোনো অসাধু চক্র যদি জরিমানা আদায়ের কথা বলে প্রতারণার চেষ্টা করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই নতুন ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে যানজট কমানো এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
ডিএমপি আশা প্রকাশ করেছে, নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা কমবে এবং রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে।