চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বেইজিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এটি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্র নীতির প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরে তার সঙ্গে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের কৌশলগত যোগাযোগকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করা।
এটি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের অধীনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। এর আগে গত এপ্রিলের শুরুতে তিনি ভারত সফর করেছিলেন। এক মাসের ব্যবধানে দুই বড় প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগকে বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন খলিলুর রহমান। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, আলোচনায় মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্প, চীনে কাঁঠাল রপ্তানি বৃদ্ধি, গুয়াংজু-চট্টগ্রাম ও সাংহাই-চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু, চীনা শিল্প স্থানান্তর, রোহিঙ্গা সংকট এবং চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করা হবে।
এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে চীনের সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ সহযোগিতা জোরদার এবং গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় তুলে ধরতে পারে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফর নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথমার্ধের মধ্যে তিনি বেইজিং সফর করতে পারেন।
এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, মিয়ানমারের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একাধিক নেতার সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে। সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।