ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

হরমোন দিয়ে কোরবানির পশু মোটাতাজা, ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৬ মে, ২০২৬ সময় : ৯:৩৯ এএম

কোরবানির পশু মোটাতাজা করতে হরমোন ব্যবহারের অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাজারে হরমোন জাতীয় ক্ষতিকর ওষুধ বিক্রি এবং ব্যবহারের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের তুলনায় হরমোন ব্যবহারের হার কিছুটা কমলেও তা একেবারে নির্মূল হয়নি। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। দ্রুত গরুকে মোটাতাজা এবং দেখতে আকর্ষণীয় করে তুলতে তারা বিভিন্ন ধরনের স্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করে থাকেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, কোরবানির মৌসুমে শত শত মৌসুমি ব্যবসায়ী বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু সংগ্রহ করে অল্প সময়ের মধ্যে বেশি মুনাফার আশায় সেগুলো বিক্রির প্রস্তুতি নেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা এক মাস বা তারও কম সময়ে পশুকে মোটাতাজা করার জন্য ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করেন। এতে গরুর শরীর ফুলে ওঠে, ওজন বেড়ে যায় এবং দেখতে মোটা-তাজা মনে হয়, যা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে।

তবে এই কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ পশুর জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি মানুষের জন্যও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব পশুর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে ক্ষতিকর হরমোন মানবদেহে প্রবেশ করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি টিউমার, ক্যানসার, কিডনি বিকল হওয়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, হরমোন প্রয়োগ করা পশু চিহ্নিত করার কিছু লক্ষণ রয়েছে। এ ধরনের গরুর শরীরে পানি জমে থাকে এবং আঙুল দিয়ে চাপ দিলে মাংস দেবে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বের হতে দেখা যায়। এসব লক্ষণ দেখলে ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, পশু মোটাতাজাকরণে সাধারণত স্টেরয়েড জাতীয় হরমোন ব্যবহার করা হয়, যা দ্রুত ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এই ওষুধ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, দেশে হরমোন দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদিও আগের তুলনায় এর ব্যবহার কমেছে, তবুও কিছু ক্ষেত্রে এখনো এ ধরনের অপপ্রয়োগ দেখা যায়। তিনি বলেন, মানবদেহে স্বাভাবিকভাবে হরমোন তৈরি হলেও বাইরের ক্ষতিকর হরমোন শরীরে প্রবেশ করলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। বাঁশখালী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সুপন নন্দী বলেন, বর্তমানে খামারিরা হরমোন ব্যবহারে ঝুঁকি নিতে চান না, কারণ এতে পশুর মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বোয়ালখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমন তালুকদারও জানান, কয়েক বছর আগের তুলনায় এখন এ ধরনের ওষুধের ব্যবহার কমে এসেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিন জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহার করা হচ্ছে।

খামারিরাও একই ধরনের মতামত দিয়েছেন। খামারি সাজিদ আলম বলেন, স্থায়ী খামারিরা সাধারণত হরমোন ব্যবহার করেন না। তবে কিছু অসাধু মৌসুমি ব্যবসায়ী সীমান্ত এলাকা থেকে গরু এনে দ্রুত মোটাতাজা করতে এসব ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। খামারি মালিক মো. ওমর জানান, কয়েক বছর আগে কোরবানির হাটে অনেক গরু মারা যাওয়ার পর থেকে এ প্রবণতা কিছুটা কমেছে।

তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার না করলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর