ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঢাকার বায়ুদূষণ কমছে না, অভিজাত এলাকাও ঝুঁকিতে


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৬ মে, ২০২৬ সময় : ১০:২৩ এএম

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বরং সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বেশ কয়েকটি অভিজাত এলাকায় বায়ুর মান আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। বুধবার সকালে বিশ্বের ১২৫টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ছিল চতুর্থ, যা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকার বায়ুর মান সূচক (একিউআই) ছিল ১৫১। এই মানকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ এ অবস্থায় দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোর বায়ুর মান তুলনামূলকভাবে বেশি খারাপ। তালিকার শীর্ষে রয়েছে বারিধারা, যেখানে একিউআই ছিল ২০২—যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। এছাড়া বারিধারা পার্ক রোডে ১৯২, উত্তর বাড্ডায় ১৮৯, বেচারাম দেউড়ীতে ১৭৯, ধানমন্ডিতে ১৬৫ এবং গুলশান লেক পার্ক এলাকায় ১৫১ একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের এ মাত্রা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

সাধারণত এপ্রিল মাসের পর থেকে ঢাকার বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হতে শুরু করে। কারণ এ সময় বৃষ্টিপাত বাড়ে, যা বাতাসের দূষিত কণাগুলোকে ধুয়ে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। কিন্তু চলতি মে মাসে কয়েক দফা বৃষ্টি হলেও বায়ুর মান আশানুরূপ উন্নতি হয়নি।

মঙ্গলবারও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হলেও দূষণের মাত্রা কমেনি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, শুধুমাত্র বৃষ্টিপাত দিয়ে বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। নগরীর নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার নির্গমন—এসবই দূষণ বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, এদিন বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল পাকিস্তানের লাহোর শহর, যেখানে একিউআই ছিল ১৯০। ঢাকার অবস্থান তার ঠিক পরেই হওয়ায় পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আইকিউএয়ারের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া খোলা জায়গায় ব্যায়াম বা দীর্ঘ সময় অবস্থান না করার কথাও বলা হয়েছে। ঘরের ভেতরে থাকার সময় জানালা-দরজা বন্ধ রাখা এবং সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিকল্পনা ও কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অন্যথায় ঢাকার বাসযোগ্যতা আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নতুবা বায়ুদূষণ ভবিষ্যতে আরও বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর