ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৭ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৫৪ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

লিবিয়া থেকে আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। তারা সবাই অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত এবং প্রত্যাবাসনে ইচ্ছুক ছিলেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোর ৫টায় বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানায়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাবাসিত এই বাংলাদেশিদের অধিকাংশই অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। দালাল চক্রের মাধ্যমে তারা বিপজ্জনক পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে অনেকেই লিবিয়ায় অবস্থানকালে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানবপাচারকারীরা বিভিন্ন সময়ে তাদের আটক রেখে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করেছে বলেও জানা যায়।

দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশে অবৈধভাবে যাওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশেষ করে লিবিয়ার মতো দেশগুলোতে মানবপাচার চক্র সক্রিয় থাকায় অনেকেই চরম মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছেন।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সরকার নিয়মিতভাবে বিদেশে আটক বা বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণকে অবৈধ পথে বিদেশে না যাওয়ার জন্য সচেতন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে দালাল চক্র অনেক তরুণকে বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে অনেকেই বিদেশে গিয়ে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বা বিভিন্ন অপরাধচক্রের শিকার হচ্ছেন।

প্রত্যাবাসিতদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অনেক সময় লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং অনিরাপদ পরিবেশে আটকে রাখা হয়। এসব কারণে তাদের দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হলেও তা দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবপাচার রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় আবারও অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার ইস্যুটি আলোচনায় এসেছে, যা দেশের জন্য একটি বড় সামাজিক ও মানবিক উদ্বেগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর