ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দেশে প্রথমবার ডেঙ্গু ও হামের টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬ সময় : ১২:১৩ পিএম

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জনস্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটবে এবং একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এসব টিকা ও অ্যান্টিভেনম সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইডিসিএল-এর বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে এই চার ধরনের টিকার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত টিকা বিদেশে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে।

বর্তমানে এসব টিকা ও প্রতিষেধক উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে প্রায় অর্ধেক দামে সরবরাহ সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে সরকারের স্বাস্থ্য ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য টিকা সহজলভ্য হবে।

দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিও বর্তমানে উদ্বেগজনক। চলতি বছরে হামের প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৩২০ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪০ হাজার শিশু আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু এবং ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী ইডিসিএল ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘কিউডেঙ্গা’ টিকা উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম উৎপাদনও এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে।

বর্তমানে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। কিন্তু দেশে অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। এছাড়া জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকারও ঘাটতি রয়েছে হাসপাতালগুলোতে। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এসব সংকট অনেকাংশে সমাধান হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

ইডিসিএল আরও জানিয়েছে, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০ একর জমির ওপর একটি বড় গবেষণা ও উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০৩২ সালের মধ্যে সেখানে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। এই প্রকল্পগুলো সফল হলে দেশের ওষুধ ও টিকা উৎপাদন খাতে বড় পরিবর্তন আসবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর