বাংলাদেশ পুলিশের এক সার্জেন্ট/সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তার বিপুল সম্পদের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমানের নামে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫টি ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, সাইফুর রহমান বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক মামলা নিষ্পত্তি, গাড়ির কাগজপত্র যাচাই, রেকার বিল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ঘুষের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন অনেকেই।
পুলিশের একজন সার্জেন্ট বা সাব-ইন্সপেক্টরের মাসিক বেতন ও ভাতা মিলিয়ে গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকার বেশি হয় না। সেই হিসাবে একজন কর্মকর্তার পক্ষে স্বাভাবিক সরকারি আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন করা সম্ভব কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব নিয়মিতভাবে যাচাই করা হলে এমন অভিযোগ আগেই সামনে আসত। অনেকের মতে, দুর্নীতির অভিযোগ শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রের বরাত দিয়ে কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়েছে যে, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চলছে। যদিও এ বিষয়ে দুদকের আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনও প্রকাশিত হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হতে পারে।
জনগণের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কীভাবে একজন মাঝারি পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন এবং এতদিন তা নজর এড়ালো কেন? অনেকেই মনে করছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ ও নিয়মিত অডিট বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
সুশাসন নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন চার দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা কতটা কার্যকর, সেটিও সামনে নিয়ে এসেছে। তারা বলছেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে জনগণের আস্থা কিছুটা হলেও ফিরতে পারে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা উচিত নয় বলেও মনে করছেন অনেকে। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আকাশজমিন / আরআর