সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে। রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব এ রিট আবেদন করেন। রিটে স্বাস্থ্যসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়।
আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লবের দাবি, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ঘাটতির কারণে এত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ প্রয়োজন।
রিটে প্রতিটি মৃত শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। রিট আবেদনটি আদালতে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। আদালত এ বিষয়ে শুনানি শেষে প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা এবং দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হলেও অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। রিট দায়েরের ঘটনায় স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহিতা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে এখন সবার নজর।
আকাশজমিন / আরআর