ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

উন্নয়নকাজের নামে সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ি: রাজধানীজুড়ে চরম দুর্ভোগ


  • আপলোড সময় : সোমবার ১১ মে, ২০২৬ সময় : ১২:৩৪ পিএম

রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত—যেদিকেই চোখ যায়, সেখানেই যেন খোঁড়াখুঁড়ির নগরী। কোথাও রাস্তা কেটে মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়েছে, কোথাও উন্নয়নকাজের নামে সড়কের অর্ধেকজুড়ে পড়ে আছে মাটি, বালু ও নির্মাণসামগ্রী। কোনো এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বাসিন্দারা। সমন্বয়হীন উন্নয়নকাজ ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।

ধানমণ্ডি, উত্তরা, বারিধারা, নতুনবাজার, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও আদাবরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সড়কে কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ করা হয়নি। কোথাও ড্রেনেজ লাইনের কাজ, কোথাও বিদ্যুৎ বা ফাইবার অপটিক্যাল লাইন স্থাপন, আবার কোথাও মেট্রোরেল-সংশ্লিষ্ট উন্নয়নকাজ চলছে। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানজট, ধুলাবালি ও কাদার দুর্ভোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি সংস্থা কাজ শেষ করার আগেই আরেকটি সংস্থা এসে একই রাস্তা আবার কাটছে। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থও।

রাজধানীর অন্যতম অভিজাত এলাকা ধানমণ্ডিতেও একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলা খোঁড়াখুঁড়ি, অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ ও ফুটপাত দখলের কারণে ক্ষোভ বাড়ছে বাসিন্দাদের মধ্যে। অনেক জায়গায় রাস্তা কাটার পর তা সংস্কার করা হয়নি। ফলে ধুলা ও কাদার সমস্যায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

ধানমণ্ডির বাসিন্দা ড. নাবিদ আহমেদ বলেন, বিভিন্ন উন্নয়নকাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এ নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবার কিছু কাজ স্থানীয় সোসাইটিকেই করতে হচ্ছে।

উত্তরার বিভিন্ন সেক্টর ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের বড় অংশ ভাঙাচোরা হয়ে আছে। কোথাও খোঁড়া রাস্তা, কোথাও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় চলাচলে তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে ৩ নম্বর সেক্টরের ৪, ৫, ৬, ৯ ও ১৩ নম্বর সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য বারবার সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। সন্ধ্যার পর ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং ও খোঁড়াখুঁড়ির কারণে তীব্র যানজট তৈরি হয়।

১৩ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত ট্যাক্স দিলেও তারা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

জসীমউদ্দীন এলাকার একাধিক সড়কে দেখা গেছে, মাটির নিচ দিয়ে তার নেওয়ার জন্য রাস্তা কাটা হলেও দীর্ঘদিনেও তা কার্পেটিং করা হয়নি। রিকশাচালক হাসান আলী বলেন, আগে ভালো রাস্তা ছিল, এখন প্রতিদিন যানজটে আটকে থাকতে হয়।

একই চিত্র বারিধারা ও নতুনবাজার এলাকাতেও। উন্নয়নকাজের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বড় অংশ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ১০০ ফিট মাদানি এভিনিউ, নতুনবাজারসংলগ্ন সড়ক ও ভাটারা থানার সামনে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ধুলাবালি ও কাদার কারণে দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারীরা।

এলাকার ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বারিধারার জে-ব্লকের এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বলেন, আগে বিকেলে ভালো বিক্রি হতো, এখন ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখেও সেই বিক্রি হচ্ছে না। রাস্তার কারণে ক্রেতারা আসতে পারছেন না।

গুলশান ফার্নিচারের শোরুম ম্যানেজার সোহেল আহমেদ বলেন, রাস্তা কাটার পর থেকে ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বেশি ভাড়া দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একই এলাকায় এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর কাজ একসঙ্গে চলায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমআরটি-১-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সারওয়ার উদ্দীন খান বলেন, ড্রেনেজ পাইপ ও ১৩২ কেভি বিদ্যুৎ লাইন স্থানান্তরের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর, কাদেরাবাদ, কাঁটাসুর ও বসিলা এলাকার অবস্থাও নাজুক। বিভিন্ন সড়কে মাসের পর মাস ধরে উন্নয়নকাজ চললেও শেষ হচ্ছে না। কোথাও কাদা, কোথাও ধুলা, আবার কোথাও বড় বড় গর্তের কারণে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকার বাসিন্দা মো. ইকবাল বলেন, বছরের পর বছর ট্যাক্স দিলেও এলাকার বেশির ভাগ সড়ক এখনো সংস্কার হয়নি। শুকনা মৌসুমে ধুলা আর বর্ষায় কাদা ও জলাবদ্ধতায় মানুষ অতিষ্ঠ।

চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের বাসিন্দা মো. রেজা বলেন, অনেক সড়ক এখনো কাঁচা। কোথাও মাটি, কোথাও বালু ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনেও সড়ক সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে।

কাঁটাসুর এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট জুবায়ের আলম বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সমন্বয়ের অভাব। একটি সংস্থা রাস্তা কাটার পর আরেকটি সংস্থা এসে আবার একই রাস্তা কাটছে।

এদিকে বসিলা ওয়েস্ট ধানমণ্ডি হাউজিং ও আদাবরের মনসুরাবাদ এলাকায়ও ভাঙাচোরা সড়ক ও ধুলাবালির কারণে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের কারণে পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ফাইবার অপটিক্যাল লাইনের জন্য নিয়মিত রাস্তা কাটতে হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে রাস্তা কাটার পর সংস্কারে গাফিলতি থাকে বলে তিনি স্বীকার করেন।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে রাস্তা কাটার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে কাজ দ্রুত শেষ করা যায়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর