ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দুদকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা

সওজ প্রকৌশলী শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ


  • আপলোড সময় : সোমবার ১১ মে, ২০২৬ সময় : ৮:০৪ পিএম

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুদ্দিন আহাম্মদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে বলে একটি লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, গোপন অনুসন্ধানে তার বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যেখানে অভিযোগকারীরা সংস্থাটির কার্যকারিতা ও সক্ষমতার ঘাটতিকে দায়ী করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শামসুদ্দিন আহাম্মদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকার বারিধারায় ১০ কাঠা জমির ওপর একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। এছাড়া গুলশান-১, বনানী ও ধানমন্ডিতে স্ত্রী ও শ্যালকের নামে পাঁচটি রেডি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গাজীপুরের মাওনায় একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লট এবং কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০ বিঘা নাল জমির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১৮ কোটি টাকা। পাশাপাশি টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো, হ্যারিয়ার ও অ্যালিয়নসহ তিনটি গাড়ির মালিকানার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। ব্যাংকিং খাতে তার নামে সাতটি ব্যাংকে এফডিআর, সঞ্চয়পত্র ও চলতি হিসাব রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, একজন ৫ম গ্রেডের নির্বাহী প্রকৌশলীর মূল বেতন প্রায় ৬৬ হাজার টাকা হলেও ৩০ বছরের চাকরি জীবনে বেতন, বোনাস ও পেনশনসহ তার বৈধ আয় সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা হতে পারে। সেই হিসেবে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার সম্পদের উৎস কী—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় ঠিকাদারদের বরাতে অভিযোগে বলা হয়, বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ কমিশন গ্রহণ, নিম্নমানের বিটুমিন ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেও বিল ছাড় দেওয়া, সাব-কন্ট্রাক্ট বাণিজ্য এবং প্রকল্পের সময়সীমা ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িয়ে ভেরিয়েশন বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং সরকারি ক্রয় ও নির্মাণ খাতের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার অংশ। অভিযোগকারীদের মতে, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও রেলওয়ের মতো বিভিন্ন দপ্তরে একই ধরনের দুর্নীতির চিত্র দেখা যায়। তারা দাবি করেন, রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশই অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

দুদকের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, কমিশনের নেতৃত্ব সংকট, জনবল ঘাটতি, প্রশিক্ষণের অভাব এবং অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির কারণে সংস্থাটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। অভিযোগকারীদের মতে, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে দুর্নীতিবাজদের মধ্যে কোনো ভয় কাজ করছে না, ফলে দুর্নীতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দুদকের ভেতরে থাকা কিছু অসাধু কর্মকর্তা তদন্ত প্রক্রিয়া ধামাচাপা দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মানি লন্ডারিং, অফশোর অ্যাকাউন্ট ও জটিল আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধানে সক্ষম জনবল ও প্রযুক্তির অভাব রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পাঁচ দফা রোডম্যাপও প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দুদকের দ্রুত পুনর্গঠন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন দুর্নীতি মনিটরিং কমিশন গঠন।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর করতে হলে নিরপেক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে সময়োপযোগী করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শেষ অংশে অভিযোগকারীরা সতর্ক করে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে প্রতিটি জেলায় এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর