ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

বোরহান বেপারী ও আবুল কাশেম চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ


  • আপলোড সময় : সোমবার ১১ মে, ২০২৬ সময় : ৮:২৯ পিএম

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনস্থ একমাত্র চালু প্রতিষ্ঠান ‘পূর্ণিমা ফিলিং এন্ড সার্ভিস স্টেশন’-এ দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরি ও জ্বালানি সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনপত্রে বলা হয়, রাজধানীর টয়েনবী সার্কুলার রোডে অবস্থিত এই ফিলিং স্টেশনটি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীন একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও সেখানে পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহে কারসাজি ও আর্থিক অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে।

আবেদন অনুযায়ী, একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থার মাধ্যমে গোপন সুইচ ব্যবহার করে তেল সরবরাহের পরিমাণ কম দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, পাম্পের ক্যাশিয়ারের কাছে থাকা একটি গোপন সুইচ ভ্রাম্যমাণ আদালত বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান চলাকালে সক্রিয় করা হয়, যার মাধ্যমে প্রকৃত পরিমাপ আড়াল করা সম্ভব হয়।

আরও অভিযোগ করা হয়, দুইটি পাইপলাইনের মাঝখানে অতিরিক্ত একটি সুইচ সংযোজন করে জ্বালানি সরবরাহে হেরফের করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের ১০ লিটার তেলের বিপরীতে প্রায় ১ লিটার পর্যন্ত কম সরবরাহ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আত্মসাত করা হচ্ছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এই অনিয়মের সঙ্গে পুরাতন অপারেটর বোরহান বেপারী জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবেদনপত্র অনুযায়ী, অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে তিনি কেরানীগঞ্জ এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে পাম্পের ব্যবস্থাপক ও উপ-পরিচালক আবুল কাশেম চৌধুরী এই কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনপত্রে দাবি করা হয়, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে লোকসান বা বন্ধ অবস্থায় থাকলেও এই ফিলিং স্টেশনটি এখনো চালু এবং লাভজনক। তবে লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

আবেদনকারী নিজেকে একজন সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়ে আসছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গুলিস্তান কমপ্লেক্স সংক্রান্ত কয়েক শত কোটি টাকার অনিয়মের প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তার দাবি অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদন দেওয়ার পর তৎকালীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে মোট ৪টি ফৌজদারি ও ৫টি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং তাকে প্রায় পাঁচ বছর সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় থাকতে হয়।

আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব মামলার কারণে তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হন। নিজের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করতে বাধ্য হন বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও চিকিৎসাজনিত সমস্যায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার শরীরে ছয়টি হার্ট ব্লক ধরা পড়ে।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে গিয়ে প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবি শেঠির অধীনে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ তিনি নিজ অর্থে এবং একটি অংশ বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে সম্পন্ন করেন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।

প্রার্থনায় আবেদনকারী বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সরেজমিন তদন্ত করে গোপন সুইচ ও তেল চুরির বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়।

আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

আবেদনকারী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পত্তি মূলত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কল্যাণের জন্য গঠিত। তাই এসব সম্পদ রক্ষায় রাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হবে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আবেদনপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি অতীতে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবে এর পরেও তিনি ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন।

শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি না ঘটে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আকাশজমিন / আরআর       


এ সম্পর্কিত আরো খবর