ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ক্যামেরায় ধরা, সরাসরি মোবাইলে মামলা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১২ মে, ২০২৬ সময় : ১০:০৮ এএম

ঢাকা মহানগরের সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। নতুন এই ব্যবস্থায় আর শুধু ট্রাফিক পুলিশের চোখের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না; বরং স্বয়ংক্রিয় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সড়কের নিয়মভঙ্গ শনাক্ত করে সরাসরি মামলা করা হচ্ছে। বিশেষ করে লাল সিগন্যাল অমান্য, বিপরীতমুখী যান চলাচল, অবৈধ পার্কিং এবং নির্ধারিত লেন না মানার মতো অপরাধগুলো এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরা পড়ছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। শাহবাগ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কাওরানবাজার, বিজয় সরণি এবং বিমানবন্দর সড়কের মতো ব্যস্ত জায়গাগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরা গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়মভঙ্গের ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করছে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হচ্ছে মামলা, যা সরাসরি গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোনে পাঠানো হচ্ছে।

এই ব্যবস্থার ফলে অনেক চালক না বুঝে বা অসচেতনভাবে ট্রাফিক আইন ভেঙে জরিমানার মুখে পড়ছেন। আবার কেউ কেউ নোটিশ পাওয়ার পরও যথাসময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় জটিলতা আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন থেকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা তৈরি হবে এবং তা ডিজিটাল মাধ্যম ও ডাকযোগে জানিয়ে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এ অবস্থায় সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। লাল সিগন্যাল মানা এবং স্টপ লাইনের ভেতরে গাড়ি থামানো বাধ্যতামূলক করতে হবে, কারণ সামান্য ভুলেও ক্যামেরার নজর এড়ানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে নির্ধারিত লেন মেনে চলা এবং বিপরীতমুখী পথে না চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

যাত্রী ওঠানো-নামানোর সময় সড়কের নিয়ম মানা এবং যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। কারণ এসব বিষয়ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে মামলা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফিটনেস সনদ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহন সড়কে না নামানোর বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কোনো ধরনের নোটিশ পেলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আইনগত জটিলতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন প্রযুক্তি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হলেও চালকদের মধ্যে সচেতনতা না বাড়লে সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এখন আর ট্রাফিক আইন ভাঙা গোপন রাখা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির নজরদারির কারণে প্রতিটি ভুলই রেকর্ড হচ্ছে। তাই জরিমানা বা মামলা এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো নিয়ম মেনে, সচেতনভাবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সড়কে চলাচল করা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর