প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) পরিদর্শন করেছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১০টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছান।
মূলত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা উদ্বোধন করতেই তিনি ঢাবিতে যান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ কর্মশালার শিরোনাম হলো— “বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষ অর্জনের রূপরেখা”।
অনুষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বের পর মোট পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এসব অধিবেশনে উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি বাস্তবায়নযোগ্য নীতিগত নকশা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের কর্মশালা উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন নীতিনির্ধারণ, গবেষণার মান উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সে সময় তিনি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে গিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন।
এবারের সফরে তার বিশ্ববিদ্যালয় আগমনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
তারা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরির বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময় করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কর্মশালার মাধ্যমে পাওয়া সুপারিশগুলো ভবিষ্যতে জাতীয় উচ্চশিক্ষা নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার যুগে উচ্চশিক্ষাকে আরও দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং গবেষণামুখী করা জরুরি। এই ধরনের উদ্যোগ সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।