দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং ৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। ফলে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে।
মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৮৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৪ জনের হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
এ সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগী মিলিয়ে ৩৬ হাজার ৮৮১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ হাজার ৮৭৭ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৬৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের এই বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর সতর্ক সংকেত। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। অনেক স্থানে শয্যা সংকট, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসচেতনতার অভাব, টিকা গ্রহণে অনীহা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর