পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আইজিপি ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড এবং অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
আইজিপি বলেন, মাদক আমাদের যুব সমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে বাহিনীর কোনো সদস্য যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পুলিশ বাহিনীকে ‘পেটোয়া বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহার করার কারণে একটি পর্যায়ে বাহিনীটি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমানে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশ আবারও জনগণের আস্থা অর্জনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। বাহিনীতে শৃঙ্খলাও ধীরে ধীরে ফিরে আসছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশের মূল দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অপরাধের সঙ্গে আপস করা হবে না। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশকে আরও কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তাই এর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পুলিশ সদস্যদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিটের সফলতা ও মাদক-অস্ত্র উদ্ধারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে আইজিপি বলেন, এ ধরনের অর্জন বাহিনীর মনোবল বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি পুলিশের সব সদস্যকে দেশের কল্যাণে আরও দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আকাশজমিন /
আরআর