পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আন্তনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হতেই যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক চাপ দেখা গেছে। বুধবার সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি টিকিটের জন্য গড়ে প্রায় ৪০০ জন চেষ্টা করেছেন। আজ যারা টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তারা আগামী ২৩ মে যাত্রা করতে পারবেন। ঈদের সব অগ্রিম টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, এবার ২৩ মে ঢাকা থেকে ৪৩টি আন্তনগর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চল—রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের জন্য চলবে ২০টি ট্রেন। এসব ট্রেনের জন্য মোট আসন ছিল ১৫ হাজার ২৬৬টি।
সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর প্রথম ১৫ মিনিটেই বিক্রি হয়ে যায় সাড়ে ১২ হাজারের বেশি টিকিট। সকাল ৯টার মধ্যে বিক্রি হয় ১৫ হাজার ৪৩টি টিকিট। ফলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় পুরো বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সকালবেলায় টিকিট কেনার জন্য ওয়েবসাইটে বিপুল চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে প্রথম আধা ঘণ্টায় প্রায় ৬০ লাখ হিট পড়ে রেলের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের বিপরীতে গড়ে ৩৯৩ জন করে চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয় বুধবার বেলা ২টায়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য নির্ধারিত ২৩টি আন্তনগর ট্রেনের বিপরীতে আসন রয়েছে ১৫ হাজার ৯৭৪টি। রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলের টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রেও ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে বরাবরের মতো এবারও চাহিদা বেশি। বিশেষ করে এসি কামরার টিকিট কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। অনেক যাত্রী একই সময়ে চেষ্টা করায় খুব সামান্য সময়ের ব্যবধানে কেউ টিকিট পেলেও অনেকে ব্যর্থ হচ্ছেন।
ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ে আগেই অগ্রিম টিকিট বিক্রির সূচি প্রকাশ করেছে। সেই অনুযায়ী ১৩ মে বিক্রি হচ্ছে ২৩ মে যাত্রার টিকিট। ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ মে যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে।
ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ২১ মে থেকে।
রেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন যাত্রী দিনে একবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। অগ্রিম ও ফিরতি—দুই ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। এছাড়া এসব টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করা হবে। তবে এসব টিকিট দিয়ে উচ্চ শ্রেণির কোচে ভ্রমণ করা যাবে না।
ঈদ উপলক্ষে এবার ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রেলওয়ে। এর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে চলবে ‘তিস্তা স্পেশাল’ এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চলবে ‘চাঁদপুর স্পেশাল’। এছাড়া ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’ ট্রেনও চালু থাকবে নির্ধারিত সময়ে।
কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য চালানো হবে দুটি বিশেষ ‘ক্যাটল স্পেশাল’ ট্রেন। ট্রেন দুটি ২২ ও ২৩ মে দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে ঢাকার বিভিন্ন স্টেশনে পৌঁছাবে।