ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দেশে হাম–উপসর্গের রোগী ৫০ হাজার ছাড়াল


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৩ মে, ২০২৬ সময় : ৩:৫৪ পিএম

দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত হামের ‘সন্দেহজনক’ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৪ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৪২৫ জন। এর মধ্যে ৬৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল। আক্রান্ত ও মৃতদের অধিকাংশই শিশু।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত আড়াই দশকে দেশে কখনো হামের সংক্রমণ এত ভয়াবহ আকার নেয়নি। একই সঙ্গে গত এক দশকের আন্তর্জাতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বে মাত্র কয়েকটি দেশে বছরে ৫০ হাজারের বেশি হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো বাংলাদেশ।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংক্রমণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনসংখ্যার অনুপাতে হিসাব করলেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তথ্য অনুযায়ী, গত আড়াই দশকে দেশে সর্বোচ্চ হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২০০৫ সালে। সে বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এরপর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ২০২৫ সালে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল মাত্র ১৩২ জন। এর আগের পাঁচ বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের ভয়াবহ সংক্রমণের অন্যতম কারণ গত বছর পর্যাপ্ত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিহীনতাও বড় ভূমিকা রেখেছে। জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে এত সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারেরও দায় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও হামকে মহামারি ঘোষণা না করাটা বড় ভুল ছিল। দ্রুত স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমানো সম্ভব হতো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও ৯ জন মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং ৮৭ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে দেশে হামে মারা গেছেন ৪৯ জন, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, শিশুমৃত্যুর বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। চিকিৎসাব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্তরভিত্তিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ভারত, ইউক্রেন, মাদাগাস্কার ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ৫০ হাজারের বেশি হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ভারতে ২০২৩ সালে আক্রান্ত ছিল ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ। মাদাগাস্কারে ২০১৯ সালে হাম রোগী ছিল ২ লাখ ১৩ হাজারের বেশি। আর কঙ্গোতে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ টিকাদানের বাইরে থাকায় সেখানে কয়েকবার বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে দ্রুত টিকাদান জোরদার, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত এবং জরুরি স্বাস্থ্যব্যবস্থা সক্রিয় না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর