ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

এসএসসি-এইচএসসি ডিসেম্বরে নয়, জানুয়ারি-এপ্রিলেই চান অংশীজনরা


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৩ মে, ২০২৬ সময় : ৮:২০ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরে নেওয়ার সরকারি পরিকল্পনার বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল, সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অংশীজনরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া অধিকাংশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ডিসেম্বরে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দেন। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আপত্তি দেখা যায়। তারা মনে করেন, হঠাৎ করে পরীক্ষার সময় চার মাস এগিয়ে আনা হলে তাদের প্রস্তুতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে পাঠ্যসূচি সম্পূর্ণভাবে শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

শিক্ষক ও অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের এই উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তাদের মতে, বর্তমান শিক্ষা কাঠামোয় হঠাৎ পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়াবে এবং ফলাফলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অনেক শিক্ষক বৈঠকে বলেন, পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করতে হলে তা ধাপে ধাপে করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে নতুন সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া অংশীজনরা ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে আয়োজনের পক্ষে বেশি মত দেন। তারা বলেন, জানুয়ারি-এপ্রিল সময়সূচি তুলনামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে এবং পাঠ্যক্রম শেষ করার জন্যও যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে সময় সমন্বয় করে পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বরে আনার বিষয়েও মত দেন। তাদের মতে, প্রতি বছর এক মাস করে সময় এগিয়ে আনা হলে শিক্ষার্থীরা সহজে মানিয়ে নিতে পারবে এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও অভিভাবকরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নিজেদের মতামত দেন। তারা পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, দেশের আবহাওয়া, পাঠ্যসূচির অগ্রগতি এবং বিভিন্ন সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সময় নির্ধারণ করা উচিত। অনেকেই মনে করেন, পরীক্ষার সময় যদি অত্যন্ত কাছাকাছি পরিবর্তন করা হয়, তাহলে তা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক কর্মকর্তা জানান, অংশীজনদের কাছ থেকে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে নেওয়ার বিষয়ে বেশি মতামত পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের মতামত বিশ্লেষণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি না হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রমও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।

বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় ও সময় সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৭ সালেই ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে কি না, নাকি ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় নিয়ে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও তাদের ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সভায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, আগামী বছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসএসসি পরীক্ষা শুরু করা গেলে রোজার আগেই তা শেষ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত যাতে ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়গুলোও বিবেচনায় থাকে।

রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তামান্না বেগম বলেন, এসএসসি পরীক্ষা আগে শেষ হলে এইচএসসির সিলেবাস সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এইচএসসি পরীক্ষা যদি মার্চ বা এপ্রিলে নেওয়া হয়, তবে তা শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী হবে। ফরম পূরণের পর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য কিছু অতিরিক্ত সময় থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রতি বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কোন সময়ে আয়োজন করা যেতে পারে, সে বিষয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর