ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

রাজধানীর সড়কে এআই নজরদারি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে হচ্ছে মামলা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ১০:২৭ এএম

রাজধানীর সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাফিক আইন ভঙ্গ যেন এক স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত হয়েছে। সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, স্টপ লাইন ভেঙে এগিয়ে যাওয়া কিংবা যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং—এসব অনিয়মে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। নানা সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি সড়কের বিশৃঙ্খলা।

তবে এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বা এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্ট ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে মামলা রেকর্ড করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এআই ক্যামেরাগুলো সড়কে চলাচলরত যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। কোনো গাড়ি ট্রাফিক আইন অমান্য করলে ক্যামেরা সেটি শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে তথ্য সংরক্ষণ করে। পরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধন তথ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের পরিচয় সংগ্রহ করা হয়। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নোটিশ পাঠানো হয় যানবাহনের মালিকের কাছে।

ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রযুক্তির ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। আগে যেখানে ট্রাফিক পুলিশকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আইন প্রয়োগ করতে হতো, এখন প্রযুক্তিই অনেকটা কাজ করে দিচ্ছে। ফলে পুলিশ সদস্যদের চাপ যেমন কমছে, তেমনি আইন অমান্যকারীদেরও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এআই ক্যামেরায় ধরা পড়েছেন অসংখ্য চালক। অনেককে গুনতে হয়েছে জরিমানাও। এর প্রভাবও পড়তে শুরু করেছে সড়কে। অনেক চালক এখন আগের তুলনায় বেশি সতর্ক হয়ে সিগন্যাল মেনে চলাচল করছেন।

কয়েকজন চালক জানিয়েছেন, শুরুতে তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তবে এখন এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা হওয়ার বিষয়টি জানার পর অনেক বেশি সচেতনভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন। একজন চালক বলেন, “আগে অনেক সময় সিগন্যাল না মেনেই চলে যেতাম। এখন ক্যামেরার কারণে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।”

তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার সমালোচনাও করেছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, শুধু জরিমানা করলেই হবে না, আগে সড়ক ব্যবস্থাপনাকে পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে। অনেক চালক অভিযোগ করেন, অনেক জায়গায় এখনও সিগন্যাল বাতি ঠিকভাবে কাজ করে না কিংবা সড়কে পর্যাপ্ত শৃঙ্খলা নেই। তাই অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান না করে কেবল আইন প্রয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও বলছেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তাদের কাজের চাপ অনেকটাই কমেছে। আগে অনেক চালক পুলিশ সদস্যদের সংকেত অমান্য করে দ্রুত চলে যেতেন। এখন ক্যামেরার কারণে অধিকাংশ চালকই নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করছেন। এতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাও সহজ হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

বর্তমানে রাজধানীর শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি এবং জাহাঙ্গীর গেইট মোড়ে এআই প্রযুক্তির কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়েছে। এসব এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ফলে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য এলাকাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচ ধরনের ট্রাফিক অপরাধকে গুরুত্ব দিয়ে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, স্টপ লাইন অতিক্রম করা, অবৈধ পার্কিং এবং নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়ি চালানো।

তিনি বলেন, “আইন অমান্যকারীদের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হয়ে আমাদের সার্ভারে জমা হচ্ছে। এর ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এআই ক্যামেরা স্থাপনের প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩০০ মামলা রেকর্ড হয়েছে। এই সংখ্যা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কতটা বেশি ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু আইন প্রয়োগ সহজ করবে না, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও নিয়ম মানার প্রবণতাও বাড়াবে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে সেই আধুনিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে রাজধানীর যানজট ও সড়ক বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের ওপর নির্ভরশীলতা কমে প্রযুক্তিভিত্তিক স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর