ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বন্দারাজার পাড়া এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চার ভাই দীর্ঘদিন ধরে ওমানে প্রবাস জীবনযাপন করছিলেন। তাদের মধ্যে দুই ভাই অবিবাহিত ছিলেন। আগামী ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে ফেরার আগে তারা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাইরে বের হয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ওমান পুলিশের ধারণা, গাড়ির ভেতরে দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন ও এসি চালু অবস্থায় থাকার কারণে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে। সেই গ্যাস শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো বর্তমানে স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহতদের মধ্যে একজন বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্য এক ভাই সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে গিয়েছিলেন। পরিবারের আরেক ভাই বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন। একসঙ্গে চার ভাইয়ের এমন মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
ওমান পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে বলা যাবে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুতে তাদের গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিবেশী ও স্বজনরা বিষয়টিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রবাসে থাকা অবস্থায় একই পরিবারের চার সদস্যের এমন মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।